
বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম:- চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেন লোহার পোল এলাকায় চট্টগ্রাম মহানগর ও বায়েজিদ মহিলা আওয়ামী লীগের আলোচিত নেত্রী রেবেকা সুলতানা প্রকাশ রেখা চৌধুরীর বাসভবনে এক গোপন বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গতকাল রাতে ওই বাসায় ৬ থেকে ৭ জন আওয়ামী লীগ নেত্রীকে নিয়ে এক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার বরাবর অবহিত করেন এবং সঠিক তথ্য প্রদান করেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়ার পরও বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ ওই নেত্রীকে গ্রেপ্তার করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো পুরো ঘটনাকে ভিন্ন খাতে মোড় নিতে পুলিশ ও অভিযুক্ত নেত্রীর মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সেকেন্ড অফিসার এবং অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেত্রী রেবেকা সুলতানা—তিনজনেরই বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। আঞ্চলিকতা ও পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে পুলিশ রেবেকা সুলতানাকে গ্রেপ্তার না করে ঘটনাটিকে ‘স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পারিবারিক বিরোধ’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তথ্য দিয়েও পুলিশ কর্তৃক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, রাজনৈতিক গোপন বৈঠকের মতো একটি সংবেদনশীল বিষয়ে সিএমপি কমিশনারকে তথ্য দেওয়ার পরও থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের চরম অবহেলা ও ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।
এ বিষয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানা কর্তৃপক্ষের অবস্থান জানতে চাইলে তারা বিষয়টিকে পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা বলে দাবি করেন। তবে চকরিয়া সিন্ডিকেট ও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পরও আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।