
বিশেষ প্রতিনিধি:- সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রাম ও সীতাকুণ্ড এলাকাতেও ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অবৈধ ও অনিবন্ধিত ফেসবুক পেজনির্ভর কথিত নিউজ পোর্টাল। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়াতে ও নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এসব ভুঁইফোঁড় পেজকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে একশ্রেণীর অসাধু চক্র।
সম্প্রতি সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ একটি চোরাই তেলের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে চোরাই তেলবাহী ভাউচারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। জাতীয় দৈনিক ‘আলোচিত প্রতিদিন’-এর ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়ায় এ বিষয়ে সরাসরি লাইভ সম্প্রচার করা হয়। এর পরদিনই ‘সীতাকুণ্ড নিউজ টুডে’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে আলোচিত প্রতিদিনের লাইভ ভিডিওর স্ক্রিনশট এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের ছবি ব্যবহার করে একটি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট পোস্ট দেওয়া হয়। পেশাগত সাংবাদিকতার ন্যূনতম নীতিমালা না মেনে, ভুক্তভোগী বা অভিযুক্ত কোনো পক্ষ-বিপক্ষের বক্তব্য ছাড়াই ওই পোস্টটি করা হয়।
স্থানীয় অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘সীতাকুণ্ড নিউজ টুডে’ নামক কথিত পেজের এডমিন নিজেই সরাসরি চোরাই তেল ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত। সে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে উপস্থাপন করে সীতাকুণ্ড এলাকার বিভিন্ন চোরাই তেলের দোকান থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি ও মাসোহারা আদায় করে আসছিল।
সীতাকুণ্ড ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার পরও ক্ষেত্রবিশেষে নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি জনজীবন ও জনস্বার্থকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।
প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতার মাঝে কিছু সাহসী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক যখনই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে সত্য তুলে ধরছেন, তখনই তাদের ওপর নেমে আসছে অপপ্রচারের খড়্গ। পেশাদার সাংবাদিকদের কোণঠাসা করতে ও মাসোহারা বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখতে অসাধু চক্রটি সহকর্মীদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এতে একদিকে অবৈধ ব্যবসায়ীরা পার পেয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে মূলধারার ও নীতিবান সাংবাদিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে দেশের সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। মাঠপর্যায়ের এই দুর্নীতির চক্র ভাঙতে কঠোর নজরদারি, ভুঁইফোঁড় পোর্টালগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং অবৈধ তেল সিন্ডিকেট উচ্ছেদে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।