জয়পুরহাটে,৩ হাজার ৭০০ একর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা,

মোঃ মাছুম মন্ডল,
জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি:
জয়পুরহাট চিনিকলে ২০২৬-২০২৭ আখ রোপণ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর সাবজোনের ১ ও ২ নম্বর ইউনিটের আখচাষিদের জমিতে এসটিপি (সুগারকেন ট্রেঞ্চ পদ্ধতি) ও সরাসরি পদ্ধতিতে আখ রোপণের মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের শুভ সূচনা হয়। একই সঙ্গে জয়পুরহাট চিনিকলের আওতাধীন ১০টি সাবজোনের ৮৮টি ইউনিটে একযোগে আখ রোপণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
সদর সাবজোনের আখচাষি তরিকুল ইসলাম, কাঞ্চন ও আলম হোসেনের জমিতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আখ রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন (বিএসএফআইসি), সদর দপ্তর ঢাকার ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (পিডিএম) কৃষিবিদ মো. আমিনুল ইসলাম।
জয়পুরহাট চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) কৃষিবিদ আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মিলের মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) আব্দুর রাজ্জাক, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) ইশতিয়াক আহমেদ রাজীব, ডিজিএম (সম্প্রসারণ) প্রবীর মল্লিক, ডিজিএম (এসআই অ্যান্ড এগ্রো) এ কে এম শফিউল আযম, ডিএম (সিপি) লিটন কুমার মন্ডল, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আলী আকতার, সাধারণ সম্পাদক জায়েদ হোসেন, চিনিকল জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আমিনুল ইসলাম, সদর-এ সাবজোন প্রধান রফিকুল ইসলামসহ চিনিকলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এ সময় আখচাষী নেতৃবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সিডিএ ও সিআইসি, সাবজোন ও ইউনিট পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ বিপুলসংখ্যক আখচাষী উপস্থিত ছিলেন।
আখ লাভজনক অর্থকরী ফসল: ব্যবস্থাপনা পরিচালক
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ খবির উদ্দিন মোল্যা বলেন, আখ একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল। সঠিক সময়ে আখ রোপণ, উন্নত জাত নির্বাচন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি অনুসরণ করা হলে চাষিরা এ ফসল থেকে ভালো মুনাফা অর্জন করতে পারেন।
তিনি বলেন, আখচাষিদের উৎসাহিত করতে সরকার এ বছরও আখের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। বর্তমানে মিলগেটে প্রতি কুইন্টাল আখের মূল্য ৬৫১ টাকা এবং বাহির কেন্দ্রে ৬৩৭ টাকা ৪৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আখচাষিদের জন্য এ বছরও ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের অন্যান্য চিনিকলের মতো জয়পুরহাট চিনিকলের আওতাধীন ১০টি সাবজোনের ৮৮টি ইউনিটে একই দিনে একযোগে আখ রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২০২৭ রোপণ মৌসুমে জয়পুরহাট চিনিকলের আওতাধীন এলাকায় মোট ৩ হাজার ৭০০ একর জমিতে আখ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগাম আখ চাষে বেশি লাভের সম্ভাবনা
ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখচাষিদের উদ্দেশে বলেন, আগাম আখ চাষ করলে কৃষকরা তুলনামূলকভাবে বেশি লাভবান হতে পারেন। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমি প্রস্তুত করে উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাতের আখ রোপণের পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণের জন্য তিনি কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আখ শুধু চিনি উৎপাদনের প্রধান কাঁচামালই নয়, এর সঙ্গে দেশের শিল্প, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আখের উৎপাদন বাড়লে চিনিকলের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং একই সঙ্গে দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষকদের অবদানও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আখচাষিদের আধুনিক প্রযুক্তিতে আখ রোপণ, উন্নত জাত নির্বাচন, সঠিক দূরত্ব বজায় রাখা, সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
চিনিকল কর্তৃপক্ষ জানায়, আখচাষিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে কৃষকদের মধ্যে আখ চাষে আগ্রহ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা নিয়মিতভাবে চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন।
আখ রোপণ মৌসুমের উদ্বোধনকে ঘিরে স্থানীয় আখচাষিদের মধ্যেও উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। কৃষকরা সময়মতো আখের মূল্য নির্ধারণ এবং আধুনিক চাষাবাদে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
জয়পুরহাট চিনিকল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, চলতি মৌসুমে নির্ধারিত ৩ হাজার ৭০০ একর আখ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আখের উৎপাদন ও ফলন বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে একদিকে আখচাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, অন্যদিকে চিনিকলের উৎপাদন কার্যক্রমও আরও শক্তিশালী হবে।