
বিশেষ প্রতিনিধি: মো: রবিউল ইসলাম:- খাগড়াছড়ি, ৪ আগস্ট: খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার বাটনাশিবির, তেঁতুলপাড়া, থানাছন্দপাড়া ও লালছড়ি এলাকায় ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের মদদে বাঙালি পরিবারের ভূমি দখলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে গুচ্ছগ্রাম ভূমি রক্ষা কমিটি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (৪ আগস্ট) খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের দাবি, সম্প্রতি রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান থেকে আসা কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে ইউপিডিএফের সহযোগিতায় বাঙালিদের রেকর্ডভুক্ত ভূমি দখলের চেষ্টা চলছে। এতে চার শতাধিক বাঙালি পরিবারের বসতভিটা ও কৃষিজমি হুমকির মুখে পড়েছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গুচ্ছগ্রাম ভূমি রক্ষা কমিটির সভাপতি মো. ইউনুস। তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৮৬ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থির পরিস্থিতিতে অনেক বাঙালি পরিবারকে বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় আশ্রয় দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা নিজ নিজ এলাকায় ফিরে বসতবাড়ি নির্মাণ এবং বাগান সৃষ্টি করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, বাগান ধ্বংস ও উচ্ছেদের চেষ্টার মাধ্যমে তাদের আবারও এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংগঠনটির নেতারা আরও অভিযোগ করেন, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান থেকে আগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে এলাকায় নতুন করে ভূমি দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এর ফলে শত শত বাঙালি পরিবার তাদের বসতভিটা ও কৃষিজমি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বাটনাশিবির, তেঁতুলপাড়া, থানাছন্দপাড়া ও লালছড়ি এলাকায় দ্রুত স্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
এ সময় সাহেদ উল্লাহ, আর আহমদ, নবী মেয়ার, মো. জাকের উল্লাহ, মকবুল আহমদ, মনোয়ারা বেগমসহ গুচ্ছগ্রাম ভূমি রক্ষা কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষ ইউপিডিএফ কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযোজন করা হবে।