
বিশেষ প্রতিনিধি:- চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের অধীনস্থ পাঁচলাইশ থানার ৭ নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ ইসমাইল হোসেনকে সম্পূর্ণ অন্যায্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
দলীয় প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নিষ্ক্রিয়তা ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগে এবং অধিকাংশ সদস্যের অনাস্থার ভিত্তিতে ইসমাইল হোসেনকে অব্যাহতি দিয়ে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মাসুদ পারভেজকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বুলু ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জমির উদ্দিন নাহিদ এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।
তবে মোঃ ইসমাইল হোসেন ও তার সমর্থক নেতাকর্মীদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং অন্যায্য। তাদের মতে, দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে কারণ দর্শানো নোটিশ (শো-কজ) দেওয়া কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, এক্ষেত্রে কোনো ধরনের নোটিশ না দিয়েই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের পক্ষে সংগঠন কোনো বাস্তব প্রমাণও উপস্থাপন করতে পারেনি।
অভিযোগ উঠেছে, পাঁচলাইশ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শফির আলম শফির সাথে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে ইসমাইল হোসেনকে এ পদ থেকে সরানো হয়েছে। ব্যক্তিগত আক্রোশ ও দ্বন্দ্বকে দলীয় ক্ষমতা হিসেবে ব্যবহার করে তাকে পদবঞ্চিত করা হয়েছে বলে মনে করছেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ক্ষোভ ও অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, “যে দলের জন্য সবসময় আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, হামলা-মামলা ও ত্যাগের শিকার হয়েছি, আজ সেই দলের জন্যই চোখের পানি ফেলতে হচ্ছে। কোনো প্রমান ছাড়া ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে আমাকে এভাবে বিনা নোটিশে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া চরম অন্যায়।”
তৃণমূল নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানিয়েছেন।