ভিত্তিপ্রস্তরের নামফলকে নিজের নাম, ক্ষুব্ধ হয়ে বিদ্যালয় ভবন উদ্বোধন না করেই ফিরে গেলেন এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ

বিশেষ প্রতিনিধি:- ভিত্তিপ্রস্তরের নামফলকে সংসদ সদস্যের (এমপি) নাম খোদাই করাকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। বিদ্যালয় ভবনের নতুন ভিত্তিপ্রস্তর নামফলকে নিজের নাম দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুষ্ঠানস্থল থেকে তিনি গাড়ি নিয়ে চলে যান।
সোমবার সকালে চট্টগ্রাম জেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারতলা নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জীর্ণ অবস্থায় থাকা বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সকালে ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করতে আসেন স্থানীয় এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে উদ্বোধনের ঠিক পূর্বমুহূর্তে পর্দা সরানোর পর তিনি দেখতে পান ভিত্তিপ্রস্তরের নামফলকে বড় অক্ষরে তাঁর নাম লেখা রয়েছে।
এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ আয়োজক ও উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “জনগণের টাকায় উন্নয়ন কাজ হবে, আর সেখানে জনপ্রতিনিধিদের নাম চটকদার করে লিখে রাখার এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত। কাজের কৃতিত্ব জনগণের, কোনো ব্যক্তির নয়। সরকারি প্রকল্পে ব্যক্তিপূজা ও নাম সর্বস্ব ফলক সংস্কৃতি পরিহার করার কথা আমরা বারবার বলে আসছি।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, নামফলক থেকে তাঁর নাম সরিয়ে কেবল প্রকল্পের নাম, অর্থায়ন এবং বাস্তবায়নের বিবরণ লিখে পুনরায় ফলক তৈরি না করা পর্যন্ত তিনি এই ভবন উদ্বোধন করবেন না। এরপর তিনি ফিতা বা ফলক উন্মোচন না করেই দ্রুত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।
এমপির এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকৌশলী এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অবাক হয়ে যান। তবে স্থানীয় সচেতন মহল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসনাত আবদুল্লাহর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলী জানান, “ঐতিহ্যগতভাবেই নামফলকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নাম রাখার নিয়ম চলে আসছিল। তবে এমপি সাহেবের নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফলক সংশোধন করা হবে এবং পরবর্তীতে নতুনভাবে উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে।”