
খুলশী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:- চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) লালখানবাজারস্থ প্রধান কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর নাকের ডগায় গড়ে উঠেছে ভয়াবহ মাদকের আখড়া। প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে খুলশী এলাকার বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও গলিতে প্রকাশ্যে হেঁটে হেঁটে ইয়াবা বিক্রি করছেন মোহাম্মদ আরমান নামে এক যুবক। এতে ধ্বংসের মুখে পড়ছে স্থানীয় তরুণ ও যুবসমাজ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আরমানের এই ওপেন-সিক্রেট মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না কেউ। খুলশী এলাকার এক অধিবাসী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আরমান রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে এবং হেঁটে হেঁটে গ্রাহকদের হাতে ইয়াবা তুলে দেয়। কোনো এলাকাবাসী যদি প্রতিবাদ করেন বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে তাকে চরম অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং মারধর করতে উদ্যত হয় আরমান। তার ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয়রা জানান, মাদক কারবারি আরমানকে নিয়মিত সুরক্ষা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরই কিছু অসাধু সদস্য। মাঝে মাঝেই দেখা যায়, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পুলিশের ইউনিফর্ম পরা সদস্যরা এসে আরমানের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে যান। পুলিশের এই ধরনের রহস্যজনক ভূমিকা ও নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার কারণেই আরমান ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে বেপরোয়াভাবে মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রের কাছাকাছি জায়গায় কীভাবে এমন প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি চলছে, তা নিয়ে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। স্থানীয় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। এলাকাবাসীর জোর দাবি—দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মাদক কারবারি আরমান এবং তার পেছনে থাকা অসাধু চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক, যাতে খুলশীর পরিবেশ মাদকমুক্ত ও নিরাপদ হয়।