চট্রগ্রামে জাতীয় মৎস্য পক্ষের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন ।

রেবেকা সুলতানা রেখা চৌধুরী
রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ সবার আগে বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে, ১৬ আগস্ট 2026 খ্রি. তারিখ রোজ রবিবার জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য দপ্তর, চট্টগ্রাম-এর যৌথ উদ্যোগে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য র্যালি চট্টগ্রাম সর্কিট হাউজে অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম এর সভাতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম জনাব সালমা বেগম । তিনি সভায় জানান বর্তমানে বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ২.৫৮ শতাংশ। ইলিশ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম, মিঠাপানির মাছে দ্বিতীয় এবং তেলাপিয়া উৎপাদনে চতুর্থ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মৎস্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৬,১৪৪.৯১ কোটি টাকা। তিনি হালদা নদীর ২০২৫ সালে মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণার বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি সামুদ্রিক জলসীমায় সলিমপুর সংরক্ষিত এলাকা সংরক্ষণ, জেলেদের ভিজিএফ বিতরণ এবং খাল-জলাধার পুনঃখনন কর্মসূচির ফলে মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র বৃদ্ধি এবং উৎপাদন বাড়বে বলে তিনি জানান। তিনি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে জেলেদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম জনাব ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে মৎস্য সম্পদের গুরুত্ব অপরিসীম। মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষীদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করে টেকসই মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন উপপরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগ, চট্টগ্রাম জনাব শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ। তিনি বলেন, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থেকে সকলকে মৎস্য প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করতে হবে। জাতীয় পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
সভাপতি জনাব মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষ ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা সম্ভব হয়। জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্র্রশাসক, চট্টগ্রাম আরও জানান যে, জেলেরা আরো সুশিক্ষিত হয়ে উন্নত প্রযুক্তিতে মাছচাষ এবং আহরণ করতে হবে। চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় পতিতপুকুরগুলোকে সংস্কার করে মাছচাষের আওতায় আনতে হবে। তাছাড়া সমুদ্রে মৎস্য আহরণের সক্ষমতা বাড়িয়ে এবং দায়িত্বশীল মৎস্য আহরন করে রপ্তানির পরিমান আরো বৃদ্ধি করে জাতীয় অর্থনীতি সমৃদ্ধ করতে হবে। সভাপতি আরো জানান চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ সফল বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম অগ্রণী ভূমিকা রাখবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমি আশা করি, আজকের আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে প্রয়োজনীয় সচেতনতা সৃষ্টি হবে এবং কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে। পরিশেষে, জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করছি এবং আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জিপি, চট্টগ্রাম জনাব মো: কাশেম চৌধুরী। তিনি বলেন, “মৎস্যজীবীদের আইনগত অধিকার সংরক্ষণ ও তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি সকলের সহযোগিতা কাম্য।”
জনাব সৈয়দ আজম উদ্দিন, যুন্ম আহব্বায়ক, মহানগর, বিএনপি, চট্টগ্রাম জনান যে, সম্পদ কি পরিমাণ রয়েছে তা নির্ধারণ করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।
সভায় বক্তারা দেশের মৎস্য সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ মাছ উৎপাদন ও মৎস্যচাষীদের উন্নয়নে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ তুলে ধরেন এবং মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষিদের পক্ষ থেকে জেলে প্রতিনিধি জনাব সমীরন দাশ বলেন সরকার 65 দিন বন্ধে এগিয়ে 58দিন করায় সরকারকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। জনাব নুরুল হক, আহব্বায়ক মৎস্যজীবী দল, চট্টগ্রাম মহানগর বলেন জেলে হিসেবে বর্তমানে যারা নিবন্ধিত রয়েছে তালিকা যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সফল উদ্যোক্তা (পোনা চাষী) হিসেবে জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৬ (জেলা পর্যায়) লাভ করেন জনাব শফিউল আলম। এছাড়া সফল মৎস্য খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৬ (জেলা পর্যায়) লাভ করে নাহার এগ্রো লি., মীরসরাই, চট্টগ্রাম-এর প্রতিনিধি জনাব মোঃ রকিবুর রহমান। আলোচনা শেষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গন হতে বর্ণাঢ্য র্যালি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালি পরবর্তী লালদিঘিতে পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়।