পেকুয়ায় ট্রলারে ডাকাতি ও অপহরণ: ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়েও নিখোঁজ মাঝি আনোয়ার, সাগরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

ওমর ফারুক স্টাফ রিপোর্টার
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ঘাটের অদূরে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারে দুঃসাহসিক ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ট্রলারের অন্য সদস্যরা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসলেও ট্রলারের প্রধান মাঝি আনোয়ার হোসেন (৫২) গত চার বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ আনোয়ার হোসেন নোয়াখালী সদর (সুধারাম) থানার আন্ডারচর গ্রামের (নাজুর বাপের বাড়ি) বাসিন্দা মো: আবদুস সামাদের ছেলে। এই ঘটনায় পেকুয়া থানায় দণ্ডবিধির ৩৪/৩৬৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং-০৮, তারিখ: ২৩/১২), যা বর্তমানে সিআইডি কক্সবাজার শাখা তদন্ত করছে।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার হোসেন দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ট্রলারে মাঝি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ০৯/০১/২০২২ইং তারিখে তিনি ট্রলার মালিক মো: আলমগীরের ট্রলার নিয়ে অন্য সহযোগীদের সাথে সাগরে মাছ ধরতে যান। ১৪/০১/২০২২ইং তারিখ রাত অনুমান ৩:০০ ঘটিকায় পেকুয়া থানাধীন মগনামা ঘাটের অদূরে একদল সশস্ত্র জলদস্যু ট্রলারটিসহ মাঝিমাল্লাদের অপহরণ করে সাগরে জিম্মি করে ফেলে।
পরবর্তীতে অপহরণকারীরা ট্রলার মালিকের ছেলে মো: রাশেদ বিল্লার কাছে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে সবাইকে হত্যা করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে ট্রলার মালিক পক্ষ ফিশারী ঘাট থেকে বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে অপহরণকারীদের ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ প্রদান করেন। মুক্তিপণ পেয়ে অপহরণকারীরা ট্রলারসহ অন্য সকল সদস্যদের মগনামা ঘাটে ছেড়ে দিলেও প্রধান মাঝি আনোয়ার হোসেন ফিরে আসেননি।
ফিরে আসা অন্য সদস্যদের বরাতে মামলার বাদিনী ও নিখোঁজের স্ত্রী বিবি রহিমা অভিযোগে জানান, অপহরণকারীরা যখন জিম্মিদের মারধর করে মুক্তিপণ দাবি করছিল, তখন আনোয়ার হোসেন মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অপহরণকারীরা তাকে নির্মমভাবে মারধর করে সাগরে ফেলে দেয়। এরপর থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পরিবারের পক্ষ থেকে সাগরের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ খোঁজাখুঁজি করেও আনোয়ার মাঝির কোনো সন্ধান বা মরদেহ পাওয়া যায়নি। মামলাটি বর্তমানে সিআইডির কাছে তদন্তাধীন রয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য:
“পেকুয়া থানার মামলা নম্বর ০৮ (তারিখ: ২৩/১২) এর অধীনে সাগরে ট্রলারে ডাকাতি ও আনোয়ার মাঝি নামক এক ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। প্রাথমিক তথ্য ও বাদীনির অভিযোগ অনুযায়ী, অপহরণের পর ভিকটিমকে সাগরে ফেলে দেওয়ার একটি বিষয় উঠে এসেছে। যেহেতু ঘটনাটি গভীর সাগরে ঘটেছে এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে, তাই আমরা ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহভাজনদের সনাক্তকরণ এবং নিখোঁজ ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা সর্বশেষ পরিণতি উদঘাটনে বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছি। মামলার তদন্ত স্বার্থে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার কারণে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নিখোঁজ ব্যক্তির এনআইডি কার্ডের সূত্র ধরে দেশব্যাপী অনুসন্ধান চলছে। যদি কোনো ব্যক্তি এই ছবির অবয়বের মানুষের সন্ধান বা কোনো তথ্য পেয়ে থাকেন, তবে তা সিআইডি কক্সবাজার কার্যালয়কে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।”
— আশরাফুল আলম > সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই), সিআইডি, কক্সবাজার।