বাঁশখালীতে ভিউ ব্যবসায়ীদের জ্বালায় অতিষ্ঠ জনগণ ।

শরীফ মাহমুদ (প্রতিনিধি )
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা, ভিউ ও অনুসারী বাড়ানোর আশায় নিম্নমানের ও অপ্রাসঙ্গিক কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বাঁশখালীর স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, কিছু তরুণ-তরুণী নিয়মিত হাস্যরসাত্মক, অপ্রাসঙ্গিক ও সস্তা বিনোদননির্ভর ভিডিও তৈরি করছেন। এমনকি কোথাও কোথাও মানবিকতার নামেও চলছে ভিউ ব্যবসা—এমন অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমানে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এসব প্ল্যাটফর্মে মানুষ সংবাদ, তথ্য, শিক্ষা, বিনোদন ও জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কনটেন্ট দেখেন। কিন্তু কিছু কনটেন্ট নির্মাতা এই সুযোগকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানোর পরিবর্তে দ্রুত ভাইরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রাসঙ্গিক ভিডিও তৈরি করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা, বাজার, নদীর পাড়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা জনসমাগমস্থলে বিভিন্ন ধরনের অভিনয়, অযাচিত হাস্যরস, একে অপরকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা কিংবা কোনো ঘটনাকে অতিরঞ্জিত করে ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। পরে এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ভিউ ও অনুসারী বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো অসহায় ব্যক্তি, দরিদ্র পরিবার কিংবা বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃশ্যও অনেক সময় ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। মানবিক সহায়তার বিষয়টি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এমন ভিডিও করা হতে পারে—তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, সহায়তার চেয়ে ক্যামেরার উপস্থিতি ও ভিডিও ভাইরাল করার বিষয়টিই কোথাও কোথাও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এতে অসহায় মানুষের ব্যক্তিগত মর্যাদা ও গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, মানুষের পাশে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় কাজ। তবে মানবিক সহায়তাকে যদি কেবল ভিউ, লাইক, শেয়ার কিংবা অনুসারী বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে মানবিকতার মূল উদ্দেশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
এদিকে এসব অপ্রাসঙ্গিক ও নিম্নমানের ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এগুলোকে নিছক বিনোদন হিসেবে গ্রহণ করলেও অনেকেই মনে করছেন, অতিরিক্ত অপ্রাসঙ্গিক কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিবেশকে নষ্ট করছে এবং মানুষের মূল্যবান সময়ের অপচয় ঘটাচ্ছে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে স্বাধীনতার পাশাপাশি সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্বও রয়েছে। শুধু দ্রুত ভাইরাল হওয়ার প্রতিযোগিতায় না গিয়ে শিক্ষা, জনসচেতনতা, স্থানীয় সমস্যা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, পর্যটন ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরে মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করা প্রয়োজন।
তাদের মতে, ভিউ ব্যবসার পরিবর্তে দায়িত্বশীল কনটেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করা গেলে বাঁশখালীর মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনাগুলো আরও সুন্দরভাবে তুলে ধরা সম্ভব।