1. live@www.dainikalochitoprotidin.com : www.dainikalochitoprotidin.com : www.dainikalochitoprotidin.com
  2. info@www.dainikalochitoprotidin.com : জাতীয় দৈনিক আলোচিত প্রতিদিন :
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঘোরাফেরায় সন্দেহ, চট্টগ্রামে ছাত্রশক্তির নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫ একাধিক মামলার আসামি কাঁচি কামাল গ্রেপ্তার প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই আকবরশাহ লেকসিটিতে মেলা , মেলায় চাঁদাবাজি ও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ কর্ণফুলীতে পিকআপভ্যানের, চাকায় পিষ্ঠ হয়ে প্রান গেল বাবা-ছেলের বহনকৃত ১৪০০ লিটার জ্বালানি তেল (ডিজেল) জব্দ। নলতায় দিশারী তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন এমপি মুহাদ্দিস রবিউল বাশার  দুবাই থেকে ফিরলেন স্বামী, এক ঘণ্টা পর মিলল স্ত্রীর মরদেহ স্বামীর মরদেহ ঝু*লছিলো ফ্যানে আর স্ত্রীর নিথর দেহ পড়েছিলো বিছানায়!  এডিশনাল ডিআইজি আপেল মাহমুদের নেতৃত্বে কক্সবাজার ছিল নিরাপদ জয়পুরহাটের সোনামুখী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক বহিষ্কার

চট্টগ্রাম মারাত্মক ঝুঁকিতে!

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬
  • ৭১ বার পড়া হয়েছে

কৃষিবিদ মো.মুজিব উল্ল্যাহ্ তুষার : – পৃথিবীর সম্পদ ফুরিয়ে যাওয়ার ঘণ্টা ইতোমধ্যেই বেজে উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমাদের জীবনকে প্রতিদিন আরও কঠিন করে তুলছে। এখনই যদি আমরা সচেতনতা তৈরি করতে না পারি, তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সময় আর নাও থাকতে পারে।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম। সমুদ্র-তীরবর্তী শহর ও বন্দরনগরী হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রাম। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন এই শহরের জন্য চরম বিপদ ডেকে আনছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতায় চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকা বিপর্যস্ত। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর পাঁচটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশের অন্যতম, যেখানে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চট্টগ্রাম মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে, যার ফলে জলাবদ্ধতা, তীব্র পানি সংকট, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ও পাহাড় ধসের মতো দুর্যোগ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। উপকূলীয় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ঘূর্ণিঝড়ের মুখে থাকা এই শহরে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং নদী দূষণ সংকটকে আরও গভীর করছে।
চট্টগ্রাম আজ শুধু একটি শহর নয় এটি জলবায়ু ঝুঁকি অব্যবস্থাপনা এবং ন্যায্যতার প্রশ্নে এক বাস্তব উদাহরণ। পাহাড়ধস জলাবদ্ধতা বায়ুদূষণ ও উপকূলীয় ঝুঁকি প্রতিনিয়ত মানুষের জীবন ও জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলছে। এই সংকট শুধু প্রাকৃতিক নয় এটি পরিকল্পনা জবাবদিহিতা ও ন্যায্যতার সংকট।

প্রতিবছর চট্টগ্রামে হাজার হাজার মানুষ সাগরের ভাঙন, বন্যা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাস্তুহারা হচ্ছে। ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-ইউএনডিপির তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হতে পারে। এসব উদ্বাস্তুর মধ্যে অধিকাংশই শহরের বিভিন্ন বস্তিতে অস্থায়ী আশ্রয় নেয়। ফলে শহরের অবকাঠামো ও পরিষেবাগুলোর ওপর চাপ বৃদ্ধি পায়।
চট্টগ্রামের সাগর এবং উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ব্যাপক হুমকির মুখে। বিশ্ব পরিবেশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সাগরের জীববৈচিত্র্য ৩৫-৫০ শতাংশ কমে যেতে পারে, যদি বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকে। ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপকূলীয় বনাঞ্চল ৩০ শতাংশ কমে গেছে এবং উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।চট্টগ্রামের বনাঞ্চল বর্তমানে ব্যাপক সংকটের মধ্যে পড়েছে। বাংলাদেশ বন বিভাগের তথ্য মতে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বনাঞ্চল প্রতিবছর প্রায় ০.৫ শতাংশ হ্রাস পাচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্যও বিপর্যস্ত হচ্ছে। বনাঞ্চল কমে যাওয়া থেকে পশুপাখির বসবাস, মাটির ক্ষয় এবং জলবায়ুর পরিবর্তন ত্বরান্বিত হচ্ছে।চট্টগ্রামের জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য নতুন কর্মসূচি এবং পুনর্বাসন কৌশল গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের মানবিক সাহায্য সংস্থা এবং বাংলাদেশ সরকার একসঙ্গে কাজ করে নতুন উদ্বাস্তু পুনর্বাসন কৌশল প্রণয়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য জাতীয় রেজিস্ট্রেশন প্রকল্প’, যা স্থানীয় সরকারকে সহযোগিতা করে উদ্বাস্তুদের চিহ্নিত করতে এবং তাদের জন্য প্রাথমিক সহায়তা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজে সহায়তা করা।

চট্টগ্রামে জলবায়ু সংকটের প্রধান প্রভাবসমূহ:

তীব্র জলাবদ্ধতা: চট্টগ্রাম শহরের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২২টিতেই সামান্য বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নিয়মিত জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা প্রায় ৩০ লাখ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলছে।
সুপেয় পানির সংকট: লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে হালদা ও কর্ণফুলী নদীর পানি পরিশোধন করা কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে চট্টগ্রাম ওয়াসা পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে পারছে না। সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, পটিয়া, এবং কর্ণফুলীসহ গ্রামাঞ্চলের অন্তত ৫০টি গ্রামে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
পাহাড় ধস ও দুর্যোগ: অনিয়মিত ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি গাছ কাটার ফলে পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। এছাড়া, বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের নিয়মিত হুমকির মুখে রয়েছে চট্টগ্রাম।
বায়ুদূষণ ও শিল্প দূষণ: অপরিকল্পিত শিল্পায়নের ফলে সৃষ্ট দূষণ পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট করছে, যা সামগ্রিক ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।চট্টগ্রামের জন্য এই সংকট মোকাবিলায় একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে চট্টগ্রামে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় একটি স্থায়ী পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। টেকসই নগর পরিকল্পনা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, এবং দীর্ঘমেয়াদী উপকূলীয় সুরক্ষা পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দিতে হবে।
স্থানীয় নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে বাসযোগ্য এবং স্থিতিশীল একটি শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় নিবেদিতভাবে কাজ করলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, স্থিতিশীল ও টেকসই শহর নিশ্চিত করা সম্ভব।

লেখক,
কৃষিবিদ মো.মুজিব উল্ল্যাহ্ তুষার
(সাংবাদিক ও পরিবেশ কর্মী)
চট্টগ্রাম।
মোবাইল নাম্বার : ০১৮১৯ – ০১৮৪৮৮

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট