২০১৪ সালে কাজ শেষ করে আজও পায়নি সভ্যতার কারিগর শতাদিক নির্মাণ শ্রমিক তাদের ন্যায্য পাওনা টাকা। মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আলম, মোহাম্মদ মিন্টু সাহেব ও ফিরোজ সাহেব নামের তিনজন ঠিকাদার, ২০১৩ সালে হাটহাজারী থেকে খাগড়াছড়ি এরিয়াতে কয়েকটি ব্রীজ কালবার্ড ও রাস্তা প্রকল্পের কাজের জন্য নির্মাণ কাজের চুক্তি করেন মো: জামাল সাত্তার নামে একজন লেবারদের মাঝি বা সাব-কন্ট্রাক্টরের সাথে। চুক্তিতে উল্লেখ আছে,শ্রমিকদের প্রতিদিনের খোরাকি দিবেন, পর্যায়ক্রমে তাদের মুজুরি পরিশোধ করবেন,এবং কাজ শেষ করলে অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করবেন।অত্যন্ত দু:খের বিষয় হল ২০১৪ সালে কাজ শেষ করার পর, ২০২৬ সালেও শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা টাকা পরিশোধ করেন নাই জনাব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আলম গং ততকালীন ক্ষমতাসীন দলের লোক হওয়ায় শ্রমিকরা তাদের অফিসে গেলে মারদর ও মামলার হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দিত।এবিষয়ে মো: জামাল সাত্তার প্রথম উকিল দিয়ে আইনী নোটিশ প্রদান করেন এবং পরক্ষণে থানায় ও কোর্টে মামলা করেন। বিবাদী ততকালীন ক্ষমতাশীন দলের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাসির উদ্দিনের খুব কাছে বন্ধু হওয়ায় তখন কোন প্রকার আইনি সহায়তা পান নাই। ৩৬ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪ সালের পরে যোগাযোগ করলে তাকে চিনেনা বলেন জনাব আলাউদ্দিন আলম গং।মোহাম্মদ জামাল সাত্তার সাংবাদিক ও বিভিন্ন মিডিয়াকে বলেন যে মিডিয়া হয়েছে জাতির আয়না আপনারা নিউজ এর মাধ্যমে আমারন্যায্য পাওনা টাকা আদায় করতে প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে সহায়তার জন্য নিউজ করেন।তার পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ প্রতিবেদক, জনাব আলাউদ্দিন আলম সাহেবের সাথে যোগাযোগ করেন উপর উল্লেখিত বিষয় আলম সাহেবের কাছে জানতে চাইলে আলম সাহেব পাওনাদার জনাব জামাল সাত্তার কে চিনেননা বলেন এবং জামাল সাত্তারের অভিযোগ অসত্য। জামাল সাত্তার বলেছে সে এক কোটি ৪২ লক্ষ টাকার কাজ করেছেন, এবং তাকে এক কোটি টাকা পরিশোধ করেছিলেন। কিন্তু আমি তাকে কোনদিন দেখি নাই, তার সাথে কোন টাকা পয়সা লেনদেন করি নাই, যদি কোন ভাবে প্রমাণ করতে পারেন যে, আমি জামাল সাত্তারকে দিয়ে কাজ করিয়েছি এবং ১০০ টাকা দিয়েছি, এরকম প্রমাণ করতে পারলে আমি জামাল সাত্তার কে তার অভিযুক্ত পাওনা ৪১ লক্ষ১৭ হাজার ৭ শত ১৭ টাকা এক বৈঠকে পরিশোধ করিব। সংবাদ প্রতিবেদক জনাব আলাউদ্দিন আলম সাহেবকে প্রশ্ন করেছিলেন যে আপনি হাটহাজারী থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত কোন কাজ করেছেন কিনা? জনাব আলাউদ্দিন আলম সাহেব বলেন, আমি হাটহাজারী থেকে খাগড়াছড়ি কোন নির্মাণ কাজ কখনো করিনাই।সংবাদ প্রতিবেদক বলেন যদি প্রমাণিত হয় যে আপনি জামাল সাত্তারকে দিয়ে কাজ করিয়েছেন, তখন কি হবে? জনাব আলাউদ্দিন আলম সাহেব বলেন, যদি প্রমাণ করতে পারেন যে আমি জামাল সাত্তারকে কখনো ১০০ টাকা প্রদান করেছি তাহলে একই বৈঠকে পুরো টাকা পরিশোধ করিব। সংবাদ প্রতিবেদক তাহার কথামতো, সেই কাজের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং সরকারি ইঞ্জিনিয়ার এর সাথে যোগাযোগ করলে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার ও সরকারি ইঞ্জিনিয়ার বলেন যে এই কাজগুলা জামাল সাত্তার আলম সাহেবের তত্যাবধানে সম্পূর্ণ করেছেন। এবং যেই ব্যক্তি জামাল সাত্তার কে আলম সাহেবের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন তিনি হচ্ছেন মোহাম্মদ আবুল কাশেম। সিটিজি প্রতিবেদক আবুল কাশেম এর সাথে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন, এবং আবুল কাশেম সাহেব বলেন, আলাউদ্দিন সাহেবের তত্ত্বাবধানে জামাল সাত্তার খাগড়াছড়ি প্রকল্প সম্পন্ন করেছেন। সিটিজি সংবাদ প্রতিনিধি প্রজেক্টের পাশে লোকদের সাথে কথা বললে, স্থানীয় লোকজন আলাউদ্দিন আলম সাহেব এই এলাকায় জামাল সাত্তারকে দিয়ে নির্মাণ কাজ করিয়েছেন। সকল কিছু পর্যালোচনা করে প্রমাণিত হয়েছে যে জনাব আলাউদ্দিন আলম সাহেবগণ জামাল সাত্তারকে দিয়ে কাজগুলো করিয়েছেন এবং কাজের মজুরি বাবদ প্রায় এক কোটি টাকা বিভিন্ন মেয়াদে প্রদান করেছেন।
তারপর সংবাদ প্রতিবেদক জনাব আলাউদ্দিন আলম সাহেবের সাথে যোগাযোগ করলে জনাব আলাউদ্দিন সাহেব বলেন এই কাজটা ছিল ফিরোজ সাহেবের, আমি মাঝেমধ্যে উনার কাজ দেখাশুনা করতে যেতাম। আরো বলেন আমি এখন ঢাকায় আছি আগামী সপ্তাহে চট্টগ্রামে এসে আপনাদের সাথে যোগাযোগ করব। তারপর থেকে আলাউদ্দিন সাহেব সংবাদ অনলাইন টিভির প্রতিনিধির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
উল্লেখ্য যে জনাব আলাউদ্দিন আলম সাহেব গং।এই প্রজেক্ট এর কাজ করে রোডস এন্ড হাইওয়ে থেকে সম্পূর্ণ বিলের টাকা উত্তোলন করে সবাই এক একজন চট্টগ্রাম শহরে বাড়ি ও ফ্ল্যাট কিনেছেন। পক্ষান্তরে শ্রমিকদের মাঝি বা সাব-কন্ট্রাক্টর যে ব্যক্তি শ্রমিকদেরকে দিয়ে এবং নিজের হাতে কাজ করেছেন, জনাব জামাল সাত্তার অসহায় শ্রমিকদের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে তাহার ফসলি জমি ও তাহার বউয়ের গহনা বিক্রি করে শ্রমিকদের কিছু পাওনা টাকা পরিশোধ করেছেন, বাকি টাকা শ্রমিকদেরকে পরিশোধ করতে না পারায় জামাল সাত্তার সামাজিকভাবে অনেক হেনস্তার শিকার হয়েছেন।
এমতাবস্থায় জামাল সাত্তার মিডিয়া ও প্রশাসনের কাছে উক্ত পাওনা টাকা আদায়ের ব্যাপারে সহযোগিতা আবেদন করেছেন।
প্রকাশক: ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান, সম্পাদক: এস এম মিজান উল্লাহ নির্বাহী সম্পাদক: আবদুল মালেক সুমন,
হেড অফিস: ৪৩ হাটখুলা রোড়, চৌধুরী শপিং মল, টিকাটুলী, ঢাকা-১২০৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত