চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) এক চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে চিকিৎসকের যোগ্যতা ও স্টেরয়েড ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ডিগ্রিধারী চিকিৎসক বনাম কথিত পল্লী চিকিৎসকদের ভূমিকা নিয়েও চলছে পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক।
Saidul Islam Nil নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী সম্প্রতি একটি পোস্টে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার Dr. Saikat Barua, MBBS, BCS-এর প্রেসক্রিপশনের ছবি প্রকাশ করেন। পোস্টে তিনি চিকিৎসকের ডিগ্রি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি স্টেরয়েড ব্যবহারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, “একটা ডাক্তার কোন ডিগ্রি নাই, শুধু মাত্র মেডিকেল অফিসার। অনলাইনে বেচা কেনা হলে সব হাল হয়ে যায়। দেশের সাধারণ জনগণ যদি বুঝতো স্টেরয়েড কি জিনিস।”
পোস্টটি ঘিরে কমেন্টে শুরু হয় চিকিৎসকদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক। Md Rahim Ullah ও Zubair Chk নামের দুই ফেসবুক ব্যবহারকারী ডিগ্রিবিহীন চিকিৎসকদের পক্ষে মন্তব্য করেন। তারা দাবি করেন, অভিজ্ঞতার কারণে অনেক পল্লী চিকিৎসকের কাছ থেকেও রোগীরা উপকৃত হন। একই ধরনের মতামত দেন Sahadat Hossain নামের আরেক ব্যবহারকারী।
অন্যদিকে, কয়েকজন ব্যবহারকারী ডিগ্রিধারী ও নিবন্ধিত চিকিৎসকের প্রয়োজনীয়তার পক্ষে মত দেন। Rashedul Karim নামের এক ব্যবহারকারী দাবি করেন, ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে তার এই দাবির স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত চিকিৎসক হিসেবে Dr. Saikat Barua, MBBS, BCS, Medical Officer, Chittagong Medical College Hospital-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার নামে একটি BMDC রেজিস্ট্রেশন নম্বরও পোস্টে দেওয়া হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, স্টেরয়েড চিকিৎসাবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ হলেও এটি সব রোগীর জন্য উপযোগী নয় এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দীর্ঘদিন বা অনিয়মিতভাবে স্টেরয়েড ব্যবহারে বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই রোগীদের নিজের সিদ্ধান্তে স্টেরয়েড শুরু বা বন্ধ না করে নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসকের ক্ষেত্রে স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত নিবন্ধন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের নীতিমালা অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো চিকিৎসক বা রোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়াও প্রয়োজন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন বিতর্কের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে চিকিৎসকের যোগ্যতা, প্রেসক্রিপশন এবং স্টেরয়েড ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির দাবি উঠেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রত্যাশা সচেতন মহলের।
প্রকাশক: ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান, সম্পাদক: এস এম মিজান উল্লাহ নির্বাহী সম্পাদক: আবদুল মালেক সুমন,
হেড অফিস: ৪৩ হাটখুলা রোড়, চৌধুরী শপিং মল, টিকাটুলী, ঢাকা-১২০৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত