আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী।
বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের অনন্য প্রতিভা, বাঙালির জাতীয় কবি, বিদ্রোহী কবি ও মুসলিম জাগরণের অন্যতম প্রধান কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এই মহান কবিকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হচ্ছে।
বাংলা ১৩৮৩ সালের ১২ ভাদ্র ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে, বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়।
জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নজরুল ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, সংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। নজরুল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাতের আয়োজন করা হয়েছে।
১৮৯৯ সালের ২৫ মে, বাংলা ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা নজরুল অল্প সময়ের সৃষ্টিশীল জীবনেই বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন কবিতা, গান, গজল, হামদ, নাত, নাটক, প্রবন্ধ ও নানা সাহিত্যকর্মে। তাঁর সাহিত্যকর্মে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পাশাপাশি উচ্চারিত হয়েছে সাম্য, মানবতা, প্রেম, স্বাধীনতা ও মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষা।
ঔপনিবেশিক শাসন, শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন লেখনী তাঁকে বাংলা সাহিত্যে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। একই সঙ্গে ইসলামী ঐতিহ্য, মুসলিম সমাজের জাগরণ এবং মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে কবিতা ও সংগীতে শক্তিশালীভাবে তুলে ধরায় তিনি বাঙালি মুসলমানের নবজাগরণের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন। তবে তাঁর সাহিত্যিক পরিচয় কোনো একক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; তিনি ছিলেন সর্বজনীন মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তাঁকে সপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয় এবং জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ও একুশে পদকে ভূষিত হন।
মৃত্যুর অর্ধশতক পরও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সংগীত বাঙালির সংগ্রাম, স্বপ্ন ও চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। অন্যায়, শোষণ, বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর দ্রোহী উচ্চারণ আজও সমান প্রাসঙ্গিক। একই সঙ্গে তাঁর সাম্য, প্রেম ও মানবতার বাণী বিভাজিত সমাজে সম্প্রীতি ও মানুষের মুক্তির পথ দেখায়।
পাঁচ দশক আগে কবি চলে গেলেও তাঁর বিদ্রোহ থেমে নেই, তাঁর গান স্তব্ধ হয়নি। বাঙালির জাতীয় জীবনের প্রতিটি জাগরণে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিটি প্রতিবাদে এবং মানবমুক্তির প্রতিটি আকাঙ্ক্ষায় আজও উচ্চারিত হয় কাজী নজরুল ইসলামের অমর চেতনা।
প্রকাশক: ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান, সম্পাদক: এস এম মিজান উল্লাহ নির্বাহী সম্পাদক: আবদুল মালেক সুমন,
হেড অফিস: ৪৩ হাটখুলা রোড়, চৌধুরী শপিং মল, টিকাটুলী, ঢাকা-১২০৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত