গতকাল রোববার গভীর রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে নবগঠিত র্যাব ও পুলিশ ক্যাম্প লক্ষ্য করে একযোগে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে কুখ্যাত ‘ইয়াসিন বাহিনী’র সন্ত্রাসীরা।পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিতে তারা যে পরিকল্পিত ছক কষেছিল, তা অত্যন্ত ভয়াবহ এবং উদ্বেগজনক!
রাত ১টার দিকে হঠাৎ ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসে সন্ত্রাসীরা নবগঠিত র্যাব ক্যাম্পের দেওয়াল বুলডোজার গুঁড়িয়ে দেয় এবং চারদিক থেকে মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ শুরু করে।
অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। হামলার পর শহর থেকে যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বাড়তি বা অতিরিক্ত ফোর্স বা ব্যাকআপ টিম এসে পৌঁছাতে না পারে, সেজন্য সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরের ভেতরের প্রধান সড়কের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রাস্তা ও কালভার্ট কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
রাত ৩টা পর্যন্ত র্যাব সদস্যরা নন-লিথাল অস্ত্র ও পাল্টা গুলি ছুড়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তুমুল গোলাগুলিতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তা কেটে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, র্যাব এবং পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত বিশাল যৌথ বাহিনী সমস্ত বাধা পেরিয়ে পুরো এলাকা চারদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলেছে এবং বর্তমানে সেখানে বড় ধরনের চিরুনি অভিযান চলছে।
দীর্ঘ ৪ দশক ধরে অপরাধীদের অভয়ারণ্য ও "রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র" হিসেবে পরিচিত এই ৩,১০০ একরের সরকারি পাহাড়ি এলাকাটি সম্প্রতি যৌথ বাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।আগামী ৩০ মে পুলিশের আইজির এলাকাটি পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে। তার আগেই নিজেদের হারিয়ে যাওয়া অপরাধ সাম্রাজ্য ফিরে পেতে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভয় দেখাতেই ইয়াসিন বাহিনী এই হামলা করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প ভেঙে ও রাস্তা কেটে সরাসরি রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করার এই দুঃসাহস কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। আমরা সাধারণ মানুষ জঙ্গল সলিমপুর থেকে এই সব সশস্ত্র সন্ত্রাসী, খুনি ও ভূমিদস্যুদের নাম নিশানা পুরোপুরি নির্মূল দেখতে চাই। যৌথ বাহিনীর এই সাঁড়াশি অভিযান সফল হোক!
প্রকাশক: ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান, সম্পাদক: এস এম মিজান উল্লাহ নির্বাহী সম্পাদক: আবদুল মালেক সুমন,
হেড অফিস: ৪৩ হাটখুলা রোড়, চৌধুরী শপিং মল, টিকাটুলী, ঢাকা-১২০৩
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত